ড্রয়ার গোনা: দিন শেষ হোক সন্দেহ ছাড়া
প্রতিটি ফার্মেসিতে একই সন্ধ্যার দৃশ্যের কোনো না কোনো রূপ আছে: ড্রয়ার গোনা হলো, অঙ্কটা কাছাকাছি, কেউ বলল “কমবেশি ঠিকই আছে।” ওই শব্দবন্ধ — কমবেশি — যেকোনো একক ঘাটতির চেয়ে বেশি দামি; কারণ ওর মানে, আসলে কেউই জানে না। তার বদলি নিয়মটা এই।
ড্রয়ার কেন সরে যায়
ক্যাশ ড্রয়ার নাটক করে ফাঁকা হয় না। ফাঁকা হয় মঙ্গলবারে:
- তাড়াহুড়োয় ভুল ভাংতি — দুবার, দুই দিকে।
- ডেলিভারির ছেলেটার জন্য ৫০০ ধার — কাল ফেরত, কোথাও লেখা নেই।
- নগদে লেখা বিক্রি, আসলে ছিল বিকাশ — কিংবা উল্টো।
- ড্রয়ার থেকে দেওয়া খরচ — চা, টেপ, রিকশা — মনে থাকল “সামান্য” বলে।
দিনশেষে হিসাব ১৮০ টাকা এদিক-ওদিক। চুরি? ভুল? কোন ভুল? কার শিফট? তুলনার কোনো প্রত্যাশা না থাকলে প্রতিটি উত্তরই কাঁধ-ঝাঁকানো, আর সেটাই কাল আবার। আরও খারাপ: কুয়াশার ভেতর সৎ স্টাফরা বয়ে বেড়ায় অস্পষ্ট সন্দেহ — যা তাদের প্রাপ্য নয়।
নিয়মটা: খুলুন, বেচুন, বন্ধ করুন
মেডিফার্মা২৪-এর ড্রয়ার সেশন দিনটাকে দুটো গণনায় বাঁধে:
ড্রয়ার খুলুন। শিফট শুরু হয় ভাংতির টাকাটা গুনে সেশন খুলে। দশ সেকেন্ড। সিস্টেম এখন দিনের শুরুর দাগটা জানে। না করা পর্যন্ত পিওএস নিজেই মনে করায়:
বিলিং স্ক্রিনই ড্রয়ারের নিয়ম মনে করায়: সেশন খুলুন — এরপর প্রতিটি ক্যাশ চলাচল আপনাআপনি তার হিসাবে; বেচার সময় বাড়তি কিছু করার নেই।
স্বাভাবিক বেচাকেনা করুন। স্টাফরা এই জায়গাটাতেই ঘাবড়ায়, আর উত্তর হলো: কিছুই বদলায় না। প্রতিটি বিক্রি, রিফান্ড, খরচ এমনিতেই সিস্টেমে যায় — সেশন শুধু ক্যাশের খাতাটা দেখে রাখে। দ্বিতীয় খাতা নেই, দুবার লেখা নেই।
গুনে বন্ধ করুন। শিফট শেষে ড্রয়ারটা গুনুন — নোট ধরে ধরে (কটা ৫০০, কটা ১০০…) কিংবা সরাসরি মোট। ড্রয়ারে কত থাকার কথা, সিস্টেম আগেই হিসাব করে রেখেছে:
প্রত্যাশা = শুরুর ভাংতি + ক্যাশ ইন − ক্যাশ আউট
গোনা আর প্রত্যাশার পার্থক্যই গরমিল, আর তার ঝাপসা থাকার অনুমতি নেই: শূন্য না হলে নোট লিখতেই হবে, হিসাবে সে ওঠে ক্যাশ ওভার/শর্ট খাতে, আর সেশনের স্থায়ী নথিতে জমে যায়। বন্ধ সেশন পরে চুপচাপ বদলানো যায় না।
মালিক যা পান
সেই সন্ধ্যাতেই উত্তর। “মঙ্গলবার সন্ধ্যার শিফটে ১৮০ কম; নোটে লেখা — লোডশেডিংয়ে দুজন কাস্টমার ভাংতি নিয়ে তর্ক করছিল।” এটা সামলানো যায় — কয়েক ঘণ্টার পুরোনো, শিফটের নামে লেখা, ব্যাখ্যা-করা বা ব্যাখ্যাযোগ্য। সেই একই ১৮০ মাসশেষের ধোঁয়াশায় পাওয়া গেলে সেটা শুধুই ক্ষয়।
ঘটনা নয়, ধরন। সেশনের ইতিহাস — প্রত্যাশা বনাম গোনা বনাম গরমিল, শিফট ধরে ধরে, নামানো যায় — ড্রয়ারের স্বাস্থ্যকে বানায় পড়া-যায় এমন গ্রাফ। এক শিফটে বারবার কম, কিংবা শুধু সবচেয়ে ব্যস্ত সন্ধ্যাগুলোয় কম — বলে দেয় ঠিক কোথায় তাকাতে হবে: প্রশিক্ষণের ঘাটতি, নিয়মের ফাঁক, নাকি — কদাচিৎ, তবে এবার প্রমাণসহ — আরও খারাপ কিছু।
তহবিলের সাথে মেলা খাতা। গরমিল হিসাবের খাতায় ওঠে বলে আপনার অ্যাকাউন্টিং-ক্যাশ আর বাস্তবের ক্যাশ চুপচাপ আলাদা হয়ে যেতে পারে না। ব্যালান্স শিটের ক্যাশ-লাইন মানে ড্রয়ার, আশা নয়। আর শিফট-শেষে ছাপার যোগ্য রিপোর্ট — প্রত্যাশা, গোনা, গরমিল, ভাগাভাগি — দিন বন্ধ হয় দলিলে, অনুভূতিতে নয়।
স্টাফ যা পান
কম-বলা অংশটা এটাই। সিস্টেম-হিসাবের বিপরীতে অন্ধ গণনা কাউন্টারের মানুষদের রক্ষা করে: ড্রয়ার মিলে গেলে সেটাও নথিতে। দিনের পর দিন পরিষ্কার ক্লোজ — লিখিত সুনাম। যে সিস্টেম একটা খারাপ সন্ধ্যা ধরে, সে একশটা ভালো সন্ধ্যাও লিখে রাখে — “কমবেশি” যা কারো জন্য কোনোদিন করেনি।
খুলুন গুনে। বন্ধ করুন গুনে। সন্দেহের আর থাকার জায়গা নেই।